একদিন, প্রতিদিন

–    পল দ্য রু

 

rooms-by-the-sea

 

সব আবহাওয়ার একটা নিজস্ব আলো আছে

প্রজ্জ্বল বা বিস্বাদ, ঘরের মেঝেতেও তা দৃশ্যমান।

দিনের পর দিন, এভাবে গোটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়

বসন্ত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত, শীতকালীন বৈচিত্র্যের মাপজোক করে।

এবং কোন এক অবশ্যম্ভাবি মুহুর্তে এক অপ্রত্যাশিত

আলোকচ্ছটা আমাদের চমকে দিতে পারে।

Continue reading “একদিন, প্রতিদিন”

Advertisements

পাঁচ ফরাসী কবিতা

 

কবিতাগুলোর অনুবাদ আমার করা। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মুগ্ধতার বশবর্তী হয়ে। মোটামুটি উদ্দেশ্যহীন কাজ, গোণার মত যদি কিছু থেকে থাকে তবে তা অনুশীলন। অনুবাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হয়েছে নিজস্ব সামান্য ফরাসী ভাষাজ্ঞানের ওপরে, অভিধান সাহায্যকারী ছিল বলা বাহুল্য, তবে প্রধান ত্রাতা ছিলেন ইংরেজি অনুবাদকেরা। নিয়মানুযায়ী একেক কবির একাধিক নমুনা অধিভুক্তকরণ বাঞ্ছনীয়, তবে সময়ের অভাব আর আলস্যে সেই সব মহৎ কাজ হয়ে ওঠে কোথায়?

পাঁচ কবিতার সাথে মূল ফরাসী, না পেলে ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করা আছে পাঠকের সুবিধার্থে। কবিদের সম্পর্কে তথ্যবহুল কোন ভূমিকা নাই, এই সুবিধা নিশ্চিত করা গেল না (আগ্রহী পাঠকেরা গুগলের দ্বারস্থ হবেন, আশা করছি বইপত্রও দেখবেন আরো জানতে)!

Continue reading “পাঁচ ফরাসী কবিতা”

একটি আষাঢ়ে গল্প (মূল: ও’ হেনরি)

অস্টিনের দক্ষিণে একসময় বাস করত স্মদারস নামে এক গেরস্ত পরিবার। পরিবারে ছিল জন স্মদারস, তার স্ত্রী, পাঁচ বছরের এক ছোট্ট মেয়ে ও তার বাবা-মা। মোটের ওপর ধরলে পরিবারটি শহরের জনসংখ্যায় ছ’ জন মানুষ যুক্ত করে, যদিও এই গল্পের চরিত্রসংখ্যা মূলত তিন।

এক রাতে খাবার পর ছোট্ট মেয়েটার প্রচন্ড পেটব্যাথা শুরু হলে জন স্মদারস তড়িঘরি করে বেরিয়ে গেল ওষুধ আনতে।

আর ফিরে এল না।

ছোট্ট মেয়েটির অসুখ ভাল হয়ে গেল। সময়ের সাথে সে-ও বড় হতে লাগল।

মেয়েটির মা স্বামীর অন্তর্ধানে বেশ কাতর হয়ে পড়ল, তারপর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই আরেকটা বিয়ে থা করে চলে গেল সান আন্তোনিওতে।

মেয়েটিও সময় এলে বিয়ে করল এবং কয়েক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার নিজের মেয়ের বয়সই হয়ে দাঁড়াল পাঁচ বছর।

মেয়েটি এখনও যে বাড়িতে থাকা কালে তার বাবা চলে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেনি, সেখানেই বসবাস করে।

এক রাতে এক আশ্চর্য্য কাকতালে তার ছোট্ট মেয়েটির প্রবল পেটপীড়া শুরু হল জন স্মদারসের তিরোধান-বার্ষিকীতে। খেয়ে-পড়ে বেচে থাকলে তিনি এতদিনে দাদুভাইয়ে পরিণত হতেন।

“আমি শহরে যাচ্ছি ওষুধ আনতে,” বলল জন স্মিথ (মেয়েটির স্বামীর নামও তাই কি না)।

“না, না, জন,” আতংকে চিৎকার করে ওঠে তার স্ত্রী। “তুমিও হারিয়ে যাবে শেষে, আর কোনদিন ফিরে আসবে না।”

তো জন স্মিথ আর গেল না, দুজনে মিলে ছোট্ট প্যান্সির শিয়রে বসে রইল (ওটাই প্যান্সির নাম ছিল)।

কিছুক্ষণ পর প্যান্সির অবস্থা আবারও খারাপ হলে জন স্মিথ ফের ওষুধ আনতে যাবার উদ্যোগ নিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে কিছুতেই যেতে দিতে রাজি নয়।

সহসা দরজাটা খুলে গেল এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, সাদা-চুলো এক বৃদ্ধ ঘরে প্রবেশ করল।

“এই ত দাদু এসে গেছে,” বলে উঠল প্যান্সি। সবার আগে সে-ই আগন্তুককে চিনে ফেলেছে। বৃদ্ধটি তার পকেট থেকে ওষুধের একটা শিশি বের করে প্যান্সিকে এক চামচ খাইয়ে দিল।

মেয়েটি সাথে সাথে ভাল হয়ে উঠল।

“স্ট্রিটকারের অপেক্ষায়,” বলল জন স্মদারস, “একটু দেরি হয়ে গেল”।