একটি আষাঢ়ে গল্প (মূল: ও’ হেনরি)

অস্টিনের দক্ষিণে একসময় বাস করত স্মদারস নামে এক গেরস্ত পরিবার। পরিবারে ছিল জন স্মদারস, তার স্ত্রী, পাঁচ বছরের এক ছোট্ট মেয়ে ও তার বাবা-মা। মোটের ওপর ধরলে পরিবারটি শহরের জনসংখ্যায় ছ’ জন মানুষ যুক্ত করে, যদিও এই গল্পের চরিত্রসংখ্যা মূলত তিন।

এক রাতে খাবার পর ছোট্ট মেয়েটার প্রচন্ড পেটব্যাথা শুরু হলে জন স্মদারস তড়িঘরি করে বেরিয়ে গেল ওষুধ আনতে।

আর ফিরে এল না।

ছোট্ট মেয়েটির অসুখ ভাল হয়ে গেল। সময়ের সাথে সে-ও বড় হতে লাগল।

মেয়েটির মা স্বামীর অন্তর্ধানে বেশ কাতর হয়ে পড়ল, তারপর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই আরেকটা বিয়ে থা করে চলে গেল সান আন্তোনিওতে।

মেয়েটিও সময় এলে বিয়ে করল এবং কয়েক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার নিজের মেয়ের বয়সই হয়ে দাঁড়াল পাঁচ বছর।

মেয়েটি এখনও যে বাড়িতে থাকা কালে তার বাবা চলে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেনি, সেখানেই বসবাস করে।

এক রাতে এক আশ্চর্য্য কাকতালে তার ছোট্ট মেয়েটির প্রবল পেটপীড়া শুরু হল জন স্মদারসের তিরোধান-বার্ষিকীতে। খেয়ে-পড়ে বেচে থাকলে তিনি এতদিনে দাদুভাইয়ে পরিণত হতেন।

“আমি শহরে যাচ্ছি ওষুধ আনতে,” বলল জন স্মিথ (মেয়েটির স্বামীর নামও তাই কি না)।

“না, না, জন,” আতংকে চিৎকার করে ওঠে তার স্ত্রী। “তুমিও হারিয়ে যাবে শেষে, আর কোনদিন ফিরে আসবে না।”

তো জন স্মিথ আর গেল না, দুজনে মিলে ছোট্ট প্যান্সির শিয়রে বসে রইল (ওটাই প্যান্সির নাম ছিল)।

কিছুক্ষণ পর প্যান্সির অবস্থা আবারও খারাপ হলে জন স্মিথ ফের ওষুধ আনতে যাবার উদ্যোগ নিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে কিছুতেই যেতে দিতে রাজি নয়।

সহসা দরজাটা খুলে গেল এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, সাদা-চুলো এক বৃদ্ধ ঘরে প্রবেশ করল।

“এই ত দাদু এসে গেছে,” বলে উঠল প্যান্সি। সবার আগে সে-ই আগন্তুককে চিনে ফেলেছে। বৃদ্ধটি তার পকেট থেকে ওষুধের একটা শিশি বের করে প্যান্সিকে এক চামচ খাইয়ে দিল।

মেয়েটি সাথে সাথে ভাল হয়ে উঠল।

“স্ট্রিটকারের অপেক্ষায়,” বলল জন স্মদারস, “একটু দেরি হয়ে গেল”।

 

 

Advertisements

রাসকোলনিকভ ও আমি

‘অপরাধ ও শাস্তি’- যেকোন সাহিত্যানুরাগীর কৈশোর-তারুণ্যের অবশ্য-পাঠ্য একটা বই। স্বভাবসিদ্ধ নিয়ম-বিরাগের কারণেই অবশ্য-পাঠ্য, অবশ্য-দেখনীয় জিনিসগুলো আস্বাদন করা হয় আমার দেরিতে। সে যা-ই হোক, দস্তয়ভস্কি সম্পর্কে এতদিন শুনে এসেছি, কিন্তু কেউ কোনদিন বলেনি (ইদানিং অনু ভাই ছাড়া) আগে কেন এই লোকের এত খ্যাতি, কোথায় তার কৃতিত্ব। ‘অপরাধ ও শাস্তি’ পড়ার পর যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তারই খানিকটা (পুরোটা করা সম্ভব না, প্রতি মুহূর্তের এত চমক লেখার সময় বা স্থান সংকুলান কি করে করি?) এখানে লিপিবদ্ধ করতে চাই।

‘অপরাধ ও শাস্তি’ এক আধুনিক শিক্ষিত দরিদ্র যুবার বিভ্রান্ত, তত্ত্ব-ভারাক্রান্ত মনের গতিবিধির সুচারু বিশ্লেষণ। সুচারু না বলে আরও ভাল হয় পুঙ্খানুপুঙ্খ বললে। দস্তয়ভস্কির বাচন ও বিশ্লেষণভংগি, পাঠক মাত্রেই জানেন, এত গভীর যে সময়ে সময়ে পিলে চমকে ওঠে; রাসকোলনিকভ ও অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও এত জীবন্ত, তাদের মনের প্রতিটি ভঙ্গিমা এত নিখুঁত ও রক্ত-মাংসের রূপে উঠে আসে যে শিউরে উঠতে হয়। আর এখানেই লেখকের কৃতিত্ব। Dostoyevsky gets under your skin- ইলেক্ট্রনের গতিময়তায় যে সূক্ষ্ম-জটিল ভাবনাগুলো আমাদের মনে উপলব্ধির অবতরণ হবার আগেই হানা দিয়ে নিমেষে সরে যায়- সেই অধরা প্রতিটি অনুভূতি ও অসমাপ্ত কথা-বাক্যকে ধরে ধরে শৈল্য-চিকিতসকের মত নিপুণ হাতে কাটাছেড়া করেন ফিয়োদর। আর ছুরির প্রতিটি পোঁচে যেন রাঙিয়ে ওঠে পাঠকের মন।

Continue reading “রাসকোলনিকভ ও আমি”