হঠাৎ এক মহীরূহের সাথে দেখা!

zafar sir

শহীদুল জহির ‘প্রথম বয়ান’ গল্পে সুপিয়ার মুখ দিয়ে বলেছিলেন- “চাইলে পাইব না ক্যান!”

শাবিপ্রবি-তে গিয়ে স্যারের সাথে আঁতকা দেখা হয়ে আসলেও এটাই মনে হয়েছিল, চাইলে কি না হয়? মরতে মরতে সম্মেলনে এসে হাজির হয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেই নিজের জীবন স্বার্থক মনে হচ্ছিল, স্যারের সাথে দেখা করার চিন্তাটা এর মধ্যে মাথা ছেড়ে কখন পালিয়েছে টেরও পাইনি। ডি-বিল্ডিং এর উল্টোপাশের ভবনে যাই, সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ আছে ঘুণাক্ষরেও জানা ছিল না (নাকি আদৌ নেই?)। বেরিয়ে আসার সময় দেখি ছোট-খাটো রোদে-পোড়া চেহারার এক ভদ্রলোক দ্রুত হেঁটে আসছেন, নিঃসন্দেহে খুব তাড়ায় আছেন তিনি। চিনতে এক মুহুর্ত দেরি হয় না, আমার রে-রে ভাব দেখে বোধয় একটু ঘাবড়েই যান। স্বল্প সময়ের মধ্যে সামান্য কিছু বাক্য-বিনিময় হয়, ফর্ম্যাল কিন্তু যথার্থ।

-স্যার! কেমন আছেন স্যার!

(স্যার কি বলছেন তার অপেক্ষা না করেই)

-স্যার আমি ফারাবী, ঢাকা থেকে এসছি, কনফারেন্সের জন্য

-কোথায় পড়েছ তুমি?

-DU…

-কনফারেন্স কেমন হচ্ছে?

-ভাল স্যার

-পেপার ছিল তোমার?

-জ্বি স্যার, আজকে সকালে…

-কেমন হয়েছে?

-ভাল হয়েছে স্যার… স্যার একটা ছবি তুলব!

-(ছবি তুলতে তুলতে) স্যার বইমেলায় কবে যাচ্ছেন?

-Next week

– আচ্ছা স্যার…

ক্লাসের তাড়ায় আবার স্যার হাঁটা ধরলে বাকরহিত হয়ে পড়ি, ওনাকে বলা হয় না আমার অগোছালো শৈশবটাকে একটা মাত্রা দিতে তার লেখাগুলো কতটা জরুরি ছিল। বলা হয় না, স্যার ভাল থাকবেন, আমাদের জন্য হলেও আরো অনেক দিন বেঁচে থাকা জরুরি আপনার…