একদিন, প্রতিদিন

–    পল দ্য রু

 

rooms-by-the-sea

 

সব আবহাওয়ার একটা নিজস্ব আলো আছে

প্রজ্জ্বল বা বিস্বাদ, ঘরের মেঝেতেও তা দৃশ্যমান।

দিনের পর দিন, এভাবে গোটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়

বসন্ত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত, শীতকালীন বৈচিত্র্যের মাপজোক করে।

এবং কোন এক অবশ্যম্ভাবি মুহুর্তে এক অপ্রত্যাশিত

আলোকচ্ছটা আমাদের চমকে দিতে পারে।

Continue reading “একদিন, প্রতিদিন”

Advertisements

পাঁচ ফরাসী কবিতা

 

কবিতাগুলোর অনুবাদ আমার করা। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মুগ্ধতার বশবর্তী হয়ে। মোটামুটি উদ্দেশ্যহীন কাজ, গোণার মত যদি কিছু থেকে থাকে তবে তা অনুশীলন। অনুবাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হয়েছে নিজস্ব সামান্য ফরাসী ভাষাজ্ঞানের ওপরে, অভিধান সাহায্যকারী ছিল বলা বাহুল্য, তবে প্রধান ত্রাতা ছিলেন ইংরেজি অনুবাদকেরা। নিয়মানুযায়ী একেক কবির একাধিক নমুনা অধিভুক্তকরণ বাঞ্ছনীয়, তবে সময়ের অভাব আর আলস্যে সেই সব মহৎ কাজ হয়ে ওঠে কোথায়?

পাঁচ কবিতার সাথে মূল ফরাসী, না পেলে ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করা আছে পাঠকের সুবিধার্থে। কবিদের সম্পর্কে তথ্যবহুল কোন ভূমিকা নাই, এই সুবিধা নিশ্চিত করা গেল না (আগ্রহী পাঠকেরা গুগলের দ্বারস্থ হবেন, আশা করছি বইপত্রও দেখবেন আরো জানতে)!

Continue reading “পাঁচ ফরাসী কবিতা”

আমার শহীদুল জহির পাঠ: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

jibon

শহীদুল জহির—বাংলা সাহিত্যের এই জাদুকরের নাম আমার কাছে নবতম প্রেমের সমার্থক হয়ে ওঠে যেদিন ই-বই এ, কম্পিউটারের পর্দায় ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র প্রথম বাক্যটি দৃষ্টিগোচর হয়—‘উনিশ শ পঁচাশি সনে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের যুবক আবদুল মজিদের পায়ের স্যাণ্ডেল পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ফট করে ছিঁড়ে যায়’। এই লাইনটির মধ্যে প্রথমেই যা নজরে পড়ে, বা বলা যায় এক ধাক্কায় যে ভঙ্গিমাটি এটি তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়, তা একটি নির্দিষ্ট গদ্যরীতি, যার সাথে প্রবন্ধের বাক্যগঠনের আমরা একটি সম্পৃক্ততা দেখতে পাই। মনে হয় লেখক যেন এই জগতের, যে জগতটি তিনি বুনে চলেছেন, তার দূরতর কোন দ্রষ্টা, যেন অন্য কোথাও পড়া কিছু গল্পের আখ্যান তিনি লিখে চলেন, যে গল্পগুলো সম্পর্কে তার নিজস্ব বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ আছে।কেন আবদুল মজিদের পায়ের স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায় তার সন্ধান করতে উৎসুক পাঠক এগোলে জানতে পায়, ‘আসলে বস্তুর প্রাণতত্ত্ব যদি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতো, তাহলে হয়তো বলা যেত যে, তার ডান পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে বস্তুর ব্যর্থতার জন্য নয়, বরং প্রাণের অন্তর্গত সেই কারণে ছিন্ন হয়, যে কারণে এর একটু পর আবদুল মজিদের অস্তিত্ব পুনর্বার ভেঙে পড়তে চায়’। দ্বিতীয় লাইনে এসে শহীদুলের বিজ্ঞানমনস্কতার সাথে আমরা পরিচিত হই, যেখানে তিনি মানুষের মানসিক বাস্তবতার সাথে বস্তুজগতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে নিজের আস্থায় আলোকপাত করেন।

Continue reading “আমার শহীদুল জহির পাঠ: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা”

দেবী প্রসঙ্গে

12238359_10153327965626973_4755189591216612547_o

মাথায় গুরুভার মুকুট- কিংবা হালফ্যাশনের বস্ত্রনিপাট- দেবী। কি করে, কে বানায়, আর কে হয়- কি পাপে কিংবা পাপের প্রায়শ্চিত্তে।

ভালবেসে মালা পড়ালে যদি- দেবী সে, কখনো বেশ্যা নয়। কখনো খেলাপী নয়- অথচ প্রস্তরের পাল্পলিপি জানে অন্তরীয় সংশয়।

এন্তার গীতিকাব্য হল লেখা। গল্প-গান-ভালবাসার উতকৃষ্টতম অর্ঘ্য অর্পিত হল যে পায়ে- তার নখরে লুকিয়ে থাকা সবুজ শ্যাওলা; যে মালা জড়ালে বাহু বেঁধে গলে গলে, সে কন্ঠের ফাঁস, থাকল অলখেই।

দেবীরা বড় শূণ্যে শূণ্যে চলে,

পায়ের পাতা ছোঁয় না মাটি মোটে

দেবীরা বড্ড বেছে বেছে কথা বলে

পাছে বদ লোকে কথাটা পেঁচিয়ে ফ্যালে! Continue reading “দেবী প্রসঙ্গে”

The Dancer and the Snake (নৃত্যের বহির্ভূত সাপ)

নৃত্যের বহির্ভূত সাপ কেন্দ্রে ফণা তোলে;
বিষ জেনেও নওল নর্তকী
নাচের ঘেরে ফোটায় নতুন ফুল-
তার অক্লান্ত ঘূর্ণিতে বাঁচে যে অক্ষয় বট
পাতার আওয়াজে তার সাপটি পুনরায় বিচলিত হয়ে পড়ে:
অথচ-
পলাতক বাজের নখর আজ তারই মুখে অভিন্ন অসংশয়;
পরিধি থেকে কেন্দ্রে একাগ্র গতি, নাচে পড়লেও
পড়তে পারে যতি-
সতর্ক জিভে খোঁজে হাওয়ার ইঙ্গিত
———-

একটি আষাঢ়ে গল্প (মূল: ও’ হেনরি)

অস্টিনের দক্ষিণে একসময় বাস করত স্মদারস নামে এক গেরস্ত পরিবার। পরিবারে ছিল জন স্মদারস, তার স্ত্রী, পাঁচ বছরের এক ছোট্ট মেয়ে ও তার বাবা-মা। মোটের ওপর ধরলে পরিবারটি শহরের জনসংখ্যায় ছ’ জন মানুষ যুক্ত করে, যদিও এই গল্পের চরিত্রসংখ্যা মূলত তিন।

এক রাতে খাবার পর ছোট্ট মেয়েটার প্রচন্ড পেটব্যাথা শুরু হলে জন স্মদারস তড়িঘরি করে বেরিয়ে গেল ওষুধ আনতে।

আর ফিরে এল না।

ছোট্ট মেয়েটির অসুখ ভাল হয়ে গেল। সময়ের সাথে সে-ও বড় হতে লাগল।

মেয়েটির মা স্বামীর অন্তর্ধানে বেশ কাতর হয়ে পড়ল, তারপর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই আরেকটা বিয়ে থা করে চলে গেল সান আন্তোনিওতে।

মেয়েটিও সময় এলে বিয়ে করল এবং কয়েক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার নিজের মেয়ের বয়সই হয়ে দাঁড়াল পাঁচ বছর।

মেয়েটি এখনও যে বাড়িতে থাকা কালে তার বাবা চলে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেনি, সেখানেই বসবাস করে।

এক রাতে এক আশ্চর্য্য কাকতালে তার ছোট্ট মেয়েটির প্রবল পেটপীড়া শুরু হল জন স্মদারসের তিরোধান-বার্ষিকীতে। খেয়ে-পড়ে বেচে থাকলে তিনি এতদিনে দাদুভাইয়ে পরিণত হতেন।

“আমি শহরে যাচ্ছি ওষুধ আনতে,” বলল জন স্মিথ (মেয়েটির স্বামীর নামও তাই কি না)।

“না, না, জন,” আতংকে চিৎকার করে ওঠে তার স্ত্রী। “তুমিও হারিয়ে যাবে শেষে, আর কোনদিন ফিরে আসবে না।”

তো জন স্মিথ আর গেল না, দুজনে মিলে ছোট্ট প্যান্সির শিয়রে বসে রইল (ওটাই প্যান্সির নাম ছিল)।

কিছুক্ষণ পর প্যান্সির অবস্থা আবারও খারাপ হলে জন স্মিথ ফের ওষুধ আনতে যাবার উদ্যোগ নিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে কিছুতেই যেতে দিতে রাজি নয়।

সহসা দরজাটা খুলে গেল এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, সাদা-চুলো এক বৃদ্ধ ঘরে প্রবেশ করল।

“এই ত দাদু এসে গেছে,” বলে উঠল প্যান্সি। সবার আগে সে-ই আগন্তুককে চিনে ফেলেছে। বৃদ্ধটি তার পকেট থেকে ওষুধের একটা শিশি বের করে প্যান্সিকে এক চামচ খাইয়ে দিল।

মেয়েটি সাথে সাথে ভাল হয়ে উঠল।

“স্ট্রিটকারের অপেক্ষায়,” বলল জন স্মদারস, “একটু দেরি হয়ে গেল”।

 

 

দশটি কবিতা (সূনৃত-তে প্রকাশিত)

আলোকপাত

অযথা জলাশয়ে ঢেউ কিংবাjanala
সাগরে থিরতা খুঁজে
থিতু হলে নিঃসীম প্রাকৃত অন্ধকারে-
রৌদ্রের বিপরীতে দুষলে কালঝড় আর
সবুজ ঘাসের বিপরীতে দাবানল।
এ খেলা চলতে পারে অবধিহীন।

ক্ষুধার চেয়েও সহজাত এ বৈপরত্য,
পরমানুর আবেগে সিঞ্চিত যে অস্থিরতা
ঘোচাবে কি করে এলোপাথারে মাথা ঠুকে।
কাল তাই তাকাবে সুদূরে।
যে প্রস্তর-লিখন চেছে তুলেছিলে দেবতার প্রণোদনায়
অস্পষ্ট রেখায় তার বোলাবে করুণ হাসি,
আলোকপাতে-
মানুষের নয় হবার শান্তি-পারঙ্গম।

 

নিঝুম দ্বীপ

এমন দৃশ্য কেউ দেখেনি কখনও।
ওষ্ঠাধরের বিচ্ছেদ স্পষ্ট
সমুখে স্বর্গ, চোখে লাগে ঘোর
সভ্যতার ইতিহাস থমকে দাঁড়ায় এখানে Continue reading “দশটি কবিতা (সূনৃত-তে প্রকাশিত)”