কবি ও কবিতা

‘কবি হওয়া’টা আসলে কি জিনিস?

প্রশ্নটা অনেকদিন যাবত মাথায় ঘুরপাক খায়, এবং রিটন খান ভাই যখন কবি-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন ‘বইয়ের হাট’-এ তখন কিছু কথা দানা বেধে যা দাঁড়ায় তা হল এই-

অনেকেই বলেন কবিতা লেখার পাশাপাশি অন্য কিছু করলে সে নাকি আর ‘কবি’ পদভুক্ত থাকে না, কবি মানে ‘শুদ্ধ-কবি’, যিনি কবিতায় বাঁচবেন-খাবেন-মরবেন। অথচ আমরা দেখতে পাই অনেক শিল্পীই তাদের জীবন শুরু করেন কবিতা দিয়ে, অসাধারণ কাজও করে যান কাব্য-শিল্পে, কিন্তু কবিতা হয়ত শেষমেষ তাদের শিল্পীজীবনের মধ্যমণি হয় না, অন্য কোন শিল্পমাধ্যমে তাদের কাজের অনুষঙ্গ হয়ে যায় (উল্লেখ্য জ্যঁ ককতো, আব্বাস কিয়ারোস্তামি)। অতঃপর লোকজনে তাকে আর ‘কবি’ হিসেবে দেখতে/ভাবতে প্রস্তুত থাকেন না। অথচ তিনি হয়ত মনে-প্রাণে একজন কবি-ই, তার চিন্তা-প্রক্রিয়া জগতের, মানুষের, প্রকৃতির গভীরতর সম্পর্কগুলো উদঘাটনেই তৎপর।

এরকম দেখা ও জানার পর আমার মনে হয় যে, ‘কবি’ হওয়াটা আসলে আদতে কেবল একটা লাইফস্টাইল নয়, প্রতিদিন রুটিনমাফিক দুই-চার লাইন প্রসব করে যাওয়াও নয়। এটা হতে পারে একজন মানুষের বাচার/চিন্তার/বুঝবার/বোঝাবার একটা পদ্ধতি, যেটা আসলে তার কাজেই (সেটা যে মাধ্যমেই হোক না কেন) সদা-প্রকাশমান থাকে।

উক্ত ভাবনাগুলো নিতান্তই ব্যক্তিগত। ইদানিং কবি/কবিতাকে নানা সংকীর্ণ ধারণায় আবদ্ধকরণের একটা চেষ্টা দেখি আশেপাশে, তার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এই চিন্তাগুলো মাথায় কাজ করে।

New York, I Love You (2008)- Review

Directors- Faith Akin, Yvan Attal, Randall Balsmeyer, Allen Hughes, Shunji Iwai, Wen Jiang, Shekhar Kapur, Joshua Marston, Mira Nair, Natalie Portman, Brett Ratner

new-york-i-love-you-1

This is the second anthology film in the ‘City of Love’ series, first one being the quite well-known ‘Paris, Je t’aime’. Movie’s a visual treat, the directors made sure that every frame affirmed the theme of the anthology- Love, and of course, New York. Since the film includes an assortment of stories and artists, you can’t really judge it based on one or two segments. Again, the directors made an effort to give us a seamless experience, so the characters from different segments would in some places meet and exchange words. But each segment has its own flavor, as their crew and casts are different. Continue reading “New York, I Love You (2008)- Review”

একটি আষাঢ়ে গল্প (মূল: ও’ হেনরি)

অস্টিনের দক্ষিণে একসময় বাস করত স্মদারস নামে এক গেরস্ত পরিবার। পরিবারে ছিল জন স্মদারস, তার স্ত্রী, পাঁচ বছরের এক ছোট্ট মেয়ে ও তার বাবা-মা। মোটের ওপর ধরলে পরিবারটি শহরের জনসংখ্যায় ছ’ জন মানুষ যুক্ত করে, যদিও এই গল্পের চরিত্রসংখ্যা মূলত তিন।

এক রাতে খাবার পর ছোট্ট মেয়েটার প্রচন্ড পেটব্যাথা শুরু হলে জন স্মদারস তড়িঘরি করে বেরিয়ে গেল ওষুধ আনতে।

আর ফিরে এল না।

ছোট্ট মেয়েটির অসুখ ভাল হয়ে গেল। সময়ের সাথে সে-ও বড় হতে লাগল।

মেয়েটির মা স্বামীর অন্তর্ধানে বেশ কাতর হয়ে পড়ল, তারপর প্রায় তিন মাসের মধ্যেই আরেকটা বিয়ে থা করে চলে গেল সান আন্তোনিওতে।

মেয়েটিও সময় এলে বিয়ে করল এবং কয়েক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার নিজের মেয়ের বয়সই হয়ে দাঁড়াল পাঁচ বছর।

মেয়েটি এখনও যে বাড়িতে থাকা কালে তার বাবা চলে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেনি, সেখানেই বসবাস করে।

এক রাতে এক আশ্চর্য্য কাকতালে তার ছোট্ট মেয়েটির প্রবল পেটপীড়া শুরু হল জন স্মদারসের তিরোধান-বার্ষিকীতে। খেয়ে-পড়ে বেচে থাকলে তিনি এতদিনে দাদুভাইয়ে পরিণত হতেন।

“আমি শহরে যাচ্ছি ওষুধ আনতে,” বলল জন স্মিথ (মেয়েটির স্বামীর নামও তাই কি না)।

“না, না, জন,” আতংকে চিৎকার করে ওঠে তার স্ত্রী। “তুমিও হারিয়ে যাবে শেষে, আর কোনদিন ফিরে আসবে না।”

তো জন স্মিথ আর গেল না, দুজনে মিলে ছোট্ট প্যান্সির শিয়রে বসে রইল (ওটাই প্যান্সির নাম ছিল)।

কিছুক্ষণ পর প্যান্সির অবস্থা আবারও খারাপ হলে জন স্মিথ ফের ওষুধ আনতে যাবার উদ্যোগ নিল। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে কিছুতেই যেতে দিতে রাজি নয়।

সহসা দরজাটা খুলে গেল এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়া, সাদা-চুলো এক বৃদ্ধ ঘরে প্রবেশ করল।

“এই ত দাদু এসে গেছে,” বলে উঠল প্যান্সি। সবার আগে সে-ই আগন্তুককে চিনে ফেলেছে। বৃদ্ধটি তার পকেট থেকে ওষুধের একটা শিশি বের করে প্যান্সিকে এক চামচ খাইয়ে দিল।

মেয়েটি সাথে সাথে ভাল হয়ে উঠল।

“স্ট্রিটকারের অপেক্ষায়,” বলল জন স্মদারস, “একটু দেরি হয়ে গেল”।

 

 

দশটি কবিতা (সূনৃত-তে প্রকাশিত)

আলোকপাত

অযথা জলাশয়ে ঢেউ কিংবাjanala
সাগরে থিরতা খুঁজে
থিতু হলে নিঃসীম প্রাকৃত অন্ধকারে-
রৌদ্রের বিপরীতে দুষলে কালঝড় আর
সবুজ ঘাসের বিপরীতে দাবানল।
এ খেলা চলতে পারে অবধিহীন।

ক্ষুধার চেয়েও সহজাত এ বৈপরত্য,
পরমানুর আবেগে সিঞ্চিত যে অস্থিরতা
ঘোচাবে কি করে এলোপাথারে মাথা ঠুকে।
কাল তাই তাকাবে সুদূরে।
যে প্রস্তর-লিখন চেছে তুলেছিলে দেবতার প্রণোদনায়
অস্পষ্ট রেখায় তার বোলাবে করুণ হাসি,
আলোকপাতে-
মানুষের নয় হবার শান্তি-পারঙ্গম।

 

নিঝুম দ্বীপ

এমন দৃশ্য কেউ দেখেনি কখনও।
ওষ্ঠাধরের বিচ্ছেদ স্পষ্ট
সমুখে স্বর্গ, চোখে লাগে ঘোর
সভ্যতার ইতিহাস থমকে দাঁড়ায় এখানে Continue reading “দশটি কবিতা (সূনৃত-তে প্রকাশিত)”

পরশ-পাথর

আমি পরশ-পাথর, স্পর্শে নিত্য স্বর্ণ ফলাই।
আমার ছায়ায়-আশ্রয় ধুলিকণাও হয়
মোক্ষম ধাতু, অক্ষয় প্রাণে বলিয়ান-

স্বর্ণ হয়ে পরে চলে যায় সব,
বিকাল ফুরালে সন্ধ্যা নিরব-
আমি পরশ-পাথর, অনাদিকাল ধরে
যে কেবল পাথরই থেকে যায়।

 

ঢাকা, ৫.০১.’১৬

এটি কোন কবিতা নয়/ This Is Not A Poem

(এটা যখন লিখি প্রতিকবিতার নামটাও জানা ছিল না। তবে এটা সে অর্থে হয়ত প্রতিকবিতা নয়ও। নামটা তবুও অন্যথা বলে। প্রথমে ইংরেজিতে লেখা হয়েছিল। পরে কি ভেবে বাংলা করে ফেলি দ্রুত।)

এটি কোন কবিতা নয়। তবু কাব্য আমাকে স্মরণ করে এ প্রলাপ লেখার ক্ষণে। এবং তা লিখিত হয় আমার শোণিতে। আমি শুধু সাবধানে, খুব সাবধানে আমার মাথার সামনটা চিরে ফেলি। Continue reading “এটি কোন কবিতা নয়/ This Is Not A Poem”

I love this film. I know, that’s a lousy starter for a film review. But really, I adore it.

day-for-night-movie-poster-1

Day for night, is ultimately a homage to the struggles of film-making- physical, emotional, material- that goes behind the scenes. In short, it’s a film about making a film. Vanguard director of the French New Wave cinema, Francois Truffaut’s one of the best, the movie has been hailed as sweet and sour reflection on the process of movie-making, which is not devoid of the same complexities that human life itself features- love, sex, the woman problem,  and death. But it also shows the dizzying array of travails that a film has to go through before being born. Actors’ personal tragedies, time shortage, budget cuts, and unforeseen death- Day for Night accomplishes in reflecting upon most of them. And delightfully, for us, all of it happens with a comic tone, a rather intelligent one as could be expected from a Master film-maker.

Continue reading