একদিন, প্রতিদিন

–    পল দ্য রু

 

rooms-by-the-sea

 

সব আবহাওয়ার একটা নিজস্ব আলো আছে

প্রজ্জ্বল বা বিস্বাদ, ঘরের মেঝেতেও তা দৃশ্যমান।

দিনের পর দিন, এভাবে গোটা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়

বসন্ত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত, শীতকালীন বৈচিত্র্যের মাপজোক করে।

এবং কোন এক অবশ্যম্ভাবি মুহুর্তে এক অপ্রত্যাশিত

আলোকচ্ছটা আমাদের চমকে দিতে পারে।

Continue reading “একদিন, প্রতিদিন”

Advertisements

পাঁচ ফরাসী কবিতা

 

কবিতাগুলোর অনুবাদ আমার করা। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন মুগ্ধতার বশবর্তী হয়ে। মোটামুটি উদ্দেশ্যহীন কাজ, গোণার মত যদি কিছু থেকে থাকে তবে তা অনুশীলন। অনুবাদের ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হয়েছে নিজস্ব সামান্য ফরাসী ভাষাজ্ঞানের ওপরে, অভিধান সাহায্যকারী ছিল বলা বাহুল্য, তবে প্রধান ত্রাতা ছিলেন ইংরেজি অনুবাদকেরা। নিয়মানুযায়ী একেক কবির একাধিক নমুনা অধিভুক্তকরণ বাঞ্ছনীয়, তবে সময়ের অভাব আর আলস্যে সেই সব মহৎ কাজ হয়ে ওঠে কোথায়?

পাঁচ কবিতার সাথে মূল ফরাসী, না পেলে ইংরেজি অনুবাদ যুক্ত করা আছে পাঠকের সুবিধার্থে। কবিদের সম্পর্কে তথ্যবহুল কোন ভূমিকা নাই, এই সুবিধা নিশ্চিত করা গেল না (আগ্রহী পাঠকেরা গুগলের দ্বারস্থ হবেন, আশা করছি বইপত্রও দেখবেন আরো জানতে)!

Continue reading “পাঁচ ফরাসী কবিতা”

আত্মকথন, অসমাপ্ত পথ ও নাশ

শুধু অন্বেষণটাই বড় হয়ে দাঁড়ালে প্রাপ্তি আর মহৎ কিছু থাকে না-
বলল পুরনো পাথর। অন্তিম এসেও কি গ্রাস করে না এই শুভ্রকান্তি ঘাসগুলো?
আর আমরাও কি নই অকৃতজ্ঞ বিরুত কতক, গোটাকয় ধূর্ত গিরগিটি?

বিশ্বাস করুন, আমি জানি না আমি কি বলছি।
আপনারাও জানেন না যেমন আপনাদের বেবাক প্রলাপের মাজেজা।
এ যেন ফ্রয়েডের ঘন ঘন মাথা নেড়ে যাওয়া
কোন তর্ক-উষ্ণ নারীবাদী সেমিনারে,
যেমন মসৃণ চরাচরে বাছুরের বেমক্কা ডিগবাজি!

কথা ছিল গড়াতে গড়াতে জল মাটি ক্ষয়ে পথ হবে
আকরিক গলে শুদ্ধ অথবা নকশার পূর্ণতা লভে-
ধারণাগুলো ঘুমিয়ে গেলে এক সময়ে সান্তনা হয়ে যায়,
এ কথা বোঝায় কে কাকে? অর্জুন, চল এ বেলা তবে
মানে মানে কেটে পড়ি

আমার শহীদুল জহির পাঠ: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

jibon

শহীদুল জহির—বাংলা সাহিত্যের এই জাদুকরের নাম আমার কাছে নবতম প্রেমের সমার্থক হয়ে ওঠে যেদিন ই-বই এ, কম্পিউটারের পর্দায় ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র প্রথম বাক্যটি দৃষ্টিগোচর হয়—‘উনিশ শ পঁচাশি সনে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের যুবক আবদুল মজিদের পায়ের স্যাণ্ডেল পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ফট করে ছিঁড়ে যায়’। এই লাইনটির মধ্যে প্রথমেই যা নজরে পড়ে, বা বলা যায় এক ধাক্কায় যে ভঙ্গিমাটি এটি তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়, তা একটি নির্দিষ্ট গদ্যরীতি, যার সাথে প্রবন্ধের বাক্যগঠনের আমরা একটি সম্পৃক্ততা দেখতে পাই। মনে হয় লেখক যেন এই জগতের, যে জগতটি তিনি বুনে চলেছেন, তার দূরতর কোন দ্রষ্টা, যেন অন্য কোথাও পড়া কিছু গল্পের আখ্যান তিনি লিখে চলেন, যে গল্পগুলো সম্পর্কে তার নিজস্ব বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ আছে।কেন আবদুল মজিদের পায়ের স্যান্ডেল ছিঁড়ে যায় তার সন্ধান করতে উৎসুক পাঠক এগোলে জানতে পায়, ‘আসলে বস্তুর প্রাণতত্ত্ব যদি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতো, তাহলে হয়তো বলা যেত যে, তার ডান পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে বস্তুর ব্যর্থতার জন্য নয়, বরং প্রাণের অন্তর্গত সেই কারণে ছিন্ন হয়, যে কারণে এর একটু পর আবদুল মজিদের অস্তিত্ব পুনর্বার ভেঙে পড়তে চায়’। দ্বিতীয় লাইনে এসে শহীদুলের বিজ্ঞানমনস্কতার সাথে আমরা পরিচিত হই, যেখানে তিনি মানুষের মানসিক বাস্তবতার সাথে বস্তুজগতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে নিজের আস্থায় আলোকপাত করেন।

Continue reading “আমার শহীদুল জহির পাঠ: জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা”

হঠাৎ এক মহীরূহের সাথে দেখা!

zafar sir

শহীদুল জহির ‘প্রথম বয়ান’ গল্পে সুপিয়ার মুখ দিয়ে বলেছিলেন- “চাইলে পাইব না ক্যান!”

শাবিপ্রবি-তে গিয়ে স্যারের সাথে আঁতকা দেখা হয়ে আসলেও এটাই মনে হয়েছিল, চাইলে কি না হয়? মরতে মরতে সম্মেলনে এসে হাজির হয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেই নিজের জীবন স্বার্থক মনে হচ্ছিল, স্যারের সাথে দেখা করার চিন্তাটা এর মধ্যে মাথা ছেড়ে কখন পালিয়েছে টেরও পাইনি। ডি-বিল্ডিং এর উল্টোপাশের ভবনে যাই, সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ আছে ঘুণাক্ষরেও জানা ছিল না (নাকি আদৌ নেই?)। বেরিয়ে আসার সময় দেখি ছোট-খাটো রোদে-পোড়া চেহারার এক ভদ্রলোক দ্রুত হেঁটে আসছেন, নিঃসন্দেহে খুব তাড়ায় আছেন তিনি। চিনতে এক মুহুর্ত দেরি হয় না, আমার রে-রে ভাব দেখে বোধয় একটু ঘাবড়েই যান। স্বল্প সময়ের মধ্যে সামান্য কিছু বাক্য-বিনিময় হয়, ফর্ম্যাল কিন্তু যথার্থ।

-স্যার! কেমন আছেন স্যার! Continue reading “হঠাৎ এক মহীরূহের সাথে দেখা!”

দেবী প্রসঙ্গে

12238359_10153327965626973_4755189591216612547_o

মাথায় গুরুভার মুকুট- কিংবা হালফ্যাশনের বস্ত্রনিপাট- দেবী। কি করে, কে বানায়, আর কে হয়- কি পাপে কিংবা পাপের প্রায়শ্চিত্তে।

ভালবেসে মালা পড়ালে যদি- দেবী সে, কখনো বেশ্যা নয়। কখনো খেলাপী নয়- অথচ প্রস্তরের পাল্পলিপি জানে অন্তরীয় সংশয়।

এন্তার গীতিকাব্য হল লেখা। গল্প-গান-ভালবাসার উতকৃষ্টতম অর্ঘ্য অর্পিত হল যে পায়ে- তার নখরে লুকিয়ে থাকা সবুজ শ্যাওলা; যে মালা জড়ালে বাহু বেঁধে গলে গলে, সে কন্ঠের ফাঁস, থাকল অলখেই।

দেবীরা বড় শূণ্যে শূণ্যে চলে,

পায়ের পাতা ছোঁয় না মাটি মোটে

দেবীরা বড্ড বেছে বেছে কথা বলে

পাছে বদ লোকে কথাটা পেঁচিয়ে ফ্যালে! Continue reading “দেবী প্রসঙ্গে”